বাংলা ব্লগ । Bangla Blog

এভারগ্রিন বাংলা ব্লগ | Evergreen Bangla Blog

শেখর সিরাজের গল্প

ছিঁচকে চোর
…………………….
শেখর সিরাজ

 

শৈলেনদের বাড়িটা অনেকটা সেকালের বনেদী জমিদার বাড়ির মতো।পরস্পর গাঁ ঘেঁষা এক সাথে অনেক গুলি ঘর।ঘন ঘন যাতায়াত ছাড়া নতুন কাউর পক্ষে একা নিদিষ্ট কোনও একটা ঘর খুজে পাওয়া এক রকম দুঃসাধ্য ব্যাপার।সেই প্রথম আমি শৈলেনদের বাড়ি গিয়ে ছিলাম।অবশ্য এর আগে অনেক পীড়াপিড়ি করেও শৈলেন আমাকে কখনও ওদের বাড়িতে নিয়ে যেতে পারেনী।শেষ অবধি আমার এক গেঁয়েমীর কাছে অনেকটা মাঝি বিহীন নৌকার মতো হাল ছেড়ে দিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে ফিরে গিয়েছে।কিন্তু সেদিন ভূগোল পরিক্ষার জন্য এমনেই কিছু ফুটনোটের দরকার হয়ে পড়ে ছিল।অগ্যতা না যেয়ে আমার উপায়ও ছিল না।শৈলেনের মুখে প্রায় বলতে শুনেছি ঐ বয়সে সে থাকার জন্য বাড়িতে নিজস্ব আলাদা একটি ঘর পেয়ে ছিল।তা নিয়ে এমন লম্বা নাক উঁচু ভাব করার কিছু আছে বলে আমার কাছে মনে হয়নী।এতো বড় যাদের একটা বাড়ি,সে বাড়ির যে কেউ ইচ্ছে করলেই যে কোনও একটা ঘর নিয়ে অনায়াশে একা থাকতে পারে।এটাই তো স্বাভাবিক।কিন্তু শৈলেন ঠিক কোন ঘরটাতে থাকতো সেটাই আমার জানা ছিল না।কখনও জিজ্ঞেস করা হয়ে উঠেনী।যেদিন শৈলেনদের বাড়ি গিয়ে পৌঁছেলাম।সেদিনেই ঠিক বুঝতে পারলাম না জিজ্ঞেস করে কেমন ভুলটাই না করলাম।এমন ঝোকের মাথায় একদিন আমাকেও যে হঠাত আগুন্তকের মতো শৈলেনদের বাড়িতে এসে উপস্হিত হতে হবে।এটা দেখে আমি নিজেই খানিকটা হতবুদ্ধি হয়ে পড়লাম।যদিও আমার বোধ বুদ্ধি এমন আহামারী পর্যায়ে কিছু ছিল না।আমি বরাবরেই সাদাসিধে গোঁ বেঁচারা টাইপের ছেলে।ধূর্ত খেঁক শিয়ালের চতুরতা আমার স্বভাবের ধাঁচে নেই।বিশাল বাড়ির লম্বা বারান্দা দিয়ে পা টিঁপে টিঁপে হেঁটে যাচ্ছি।কাউকে দেখতেও পাচ্ছি না যে কিছু একটা জিজ্ঞেস করবো।ভর দুপুরের নির্জন বাড়িটা যেন হিমালয়ের পর্বত শৃঙ্গের মতো বুকের ভিতর জগদ্দলের দুর্গম পাহাড় হয়ে উঠেছিল।

পা টিঁপে টিঁপে হাঁটতে হাঁটতে একটা ঘরের জানালার খিরকিতে এসে আমার চোখ দুটো প্রায় চুম্বকের মতো করে আঁটকে গিয়েছিল।শৈলেনদের বাড়িতে এসে যে এমন একটি দৃশ্যের মুখোমুখি আমাকে হতে হবে।তা বোধদয় আমার ভাবনার অন্তরায় ছিল।স্কুলের টিফিন পিরিয়ট ফাঁকি দিয়ে নাটক থিয়েটার সিনেমায় এমন দু একটি শৃঙ্গারের দৃশ্য যে না দেখেছি এমনও নয়।বয়ঃসন্ধিকালের বসয়টার টানেই যে অন্যরকম।শরীরে রন্দ্রে রন্দ্রে নিষিদ্ধ রকমের সব উত্তেজনা।আজকালের ছেলে ছোঁকড়ারা হয়তো তা আমার চেয়ে অনেক বেশি ভাল জানে।লাল রং এর খিরকির পর্দাটা এক পাশে সরে গিয়ে প্রায় কপাটের সাথে উল্টিয়ে আছে। সাহেবী ঢংএ এক ভদ্র লোককে দেখতে পেলাম।আঁঠারও কি উঁনিশ বছর বয়সী এক যুবতী মেয়েকে ধরে ঠোঁঠ গুজে চমু খাচ্ছেন।।উজ্জঁল দোহারা শ্যামলা মেয়েটির শরীরের গড়ন দেখে যদিও আমি তার বয়সটিকে ঠিক ঠাওরে উঠতে পারছিলাম না।সবটাই আমার অকাল পক্ক কাঁচা বয়সের অনুমান দগ্ধ দুরসন্ধি।আঁঠারো কি উঁনিশ তা মেয়েটির বয়স যাই হউক কেন?তা নিয়ে আমার অদৌ চিন্তিত হবার কোনও কারন দেখছি না।।শুনেছি মেয়েদের বয়স আর ছেলেদের বেতনের কথা কখনও জিজ্ঞেস করতে হয় না।

ভদ্রলোক মেয়েটির পেটের সম্মুখে অংশের মাথা রেখে কান পেতে অধির আগ্রহে কি যেনো শুনতে চাচ্ছেন।পরে বুঝতে পারলাম মেয়েটি সন্তান সম্ভবনা পোয়াতি।এবং সাথের ভদ্র লোকটিই যে,সেই আগত সন্তানটির পিতৃত্বের ভরন পোষনের ধরিত্র কর্নধারী।অতএব তারা দুজনেই যে সম্পর্কে স্বামী স্ত্রী তাতে আমার আর সন্দেহের অবকাশ থাকল না।গর্ভবতী মেয়েটিকে জরিয়ে ধরে তার স্বামি পতি দেবতাটি অনবরত খুনসুটি করে।মেয়েটি কিশোরী বালিকাটির মতো করে খিল খিলিয়ে কারন অকারনে হেসে গড়িয়ে পড়ে।বোঝা যায় খুব সুখী দম্পতি।কুঁয়াশায় ঢাকা মেকি সুখীর আভরনের কোনও প্রলেপ ছায়ার মুখোশ পড়ে নেই।প্রথম থেকে শেষ অবধি সবটাই যেন প্রকৃতিদত্ত যার মধ্যে কৃত্রিমতার বায়ো-সার্জারীর কোনও মিশ্র দ্রবনের শংকর আছে বলে মনে হয় না।এমনিটি করে আজকের আধুনিক মহারথি যুগের দম্পতির মধ্যে হয়তো হাজারে এক জোড়া খুজে পাওয়া ভার।তাতে কোনও দ্বিধা সংশয়ের বালাই নেই।স্হান কাল বিশেষ হয়তো ভালোবাসারও প্রকার ভেদের বহি প্রকাশ আছে।এই দম্পতিকে দেখে আজ আমার মনে তারেই একটি ঈঙ্গিত প্রবাহের টেউ খেলে গেলো।আমি সনাতন অনাড়ী যদিও ভালোবাসা দাম্পদ্য এজাতীয় শব্দের ব্যবহার মানুষের চরিত্রে কিভাবে প্রয়োগ মন্ত্রে ঘটাতে হয়।তখনও আমার বোধ বুদ্ধির বয়স সে পরিমানে সাবালকত্বে গিয়ে পৌঁছায়নী।হাতে পায়ে কলা গাছের মতো করে যা একটু লকলকিয়ে লম্বা হয়ে উঠে ছিলাম।আর একটু বড় হয়ে জেনে ছিলাম সবটাই মানুষের অবচেতন মনের বিকারগ্রস্ত খামখেয়ালী পনা।মিশ্র দ্রবন পদার্থের মতো লুঘু ঘনত্বের আপেক্ষিক ব্যাপার এইসব সুখ প্রেম ভালোবাসার ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার উপাদানগুলো।তাই হয়তো জীবনে বেঁচে থাকার মৌলিক সমীকরনের কঠিন র্শতটিও খুব সহজ হয়ে উঠেছিল।আর দশ জনের কথা বলতে পারবো না।নিজের জীবনের মুল মন্ত্র গুরু দক্ষিনাটি আমি প্রথম থেকে শেষ অবধি এই রকমেই পেয়েছিলাম।
মেয়েটি আবারও খিঁল খিঁলিয়ে হেসে উঠে বলে-এই তুমি কি শুরু করছো এমন ভর দুপুরে।কেউ দেখে ফেলবে।ভদ্র লোকটিও একগাল হেসে বলে-দেখুক….আমার রাজত্বে আমি রাজকন্যাকে নিয়ে যা খুশি করবো।তাতে যে যা বলে বলুক।আর একজন বিবাহীত পুরুষ বিয়ের পর তার স্ত্রীর সঙ্গে যা করে।আমিও তাই করছি।কোনও অন্যায় কিছু তো করছি না।মেয়েটি মুখ ভেঙ্গেছি কেটে বলে কি আমার বীর পুরুষরে….খালি বাড়ি পেয়ে,খুব বুঝি যৌবন রস উপচে পড়চে।একটু পরেই বাবা মা হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরবেন।তখন দেখবো ভেজা বেড়াল-যেন ভাঁজা মাছটিও উল্টিয়ে খেতে জানো না।এখন উঠো,যেয়ে স্লান সেরে এসো।দুষ্টমী অনেক হয়েছে।

আহা!অরুনা এমন করছো কেন?এতোদিন বাঁধে এলাম একটু কোথায় আদর যত্ন করবে তা না।মুখের উপর ঝাঁটা মারতে শুরু করলে।হ্যাঁ তুমি তো
কঁচি খোকা বাবুটি তোমাকে এখন দুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হবে।এ বেলা উঠো তো,অনেক কাজ পড়ে আছে।
ভদ্র লোকটি এবার বসা থেকে উঠে দু হাতে অরুনাকে পাঁজা কোলে করে শুন্যের উপরে তুলে তিন চার বার চরকির মতো ঘুরালেন।সেই ফাঁকে যেন মস্ত বড় একটা দুর্ঘটনা নিমিসের মধ্যেই ঘটে গেলো।ভদ্র লোকের চোখ আমার চোখের উপর এসে পড়ে।আমি জানালার খিড়কি থেকে কিছুটা পিছনের দিকে সরে দাড়ালাম।উপস্হিত বুদ্ধির কলা কৌশলের চতুরতায় তাক্ষ্যনিক ভাবে আমি আমার চিন্তার জলা ভুমিতে সে মূহুর্তে কিছু খুজে পেলাম না।শুধু নিজের ভিতর কেমন জানি একটু অপরাধ বোধের গ্লানিতে ভুগছিলাম।পরের বাড়ির জানালার খিরকিতে এভাবে কখনও উঁকি দেওয়া উচিত নয়।উঁকি দেওয়া বলতে যা বুঝায় আসলে ঠিক তা নয়।বারান্দা দিয় হাঁটতে যেয়ে অপ্রত্যাশিত ভাবেই আমার চোখ দুটো জানালার খিরকিতে যেয়ে আটকে গিয়েছিল।বোধদয় কোথাও যেন আর একটি ভুল করলাম।দৌড়ে পালিয়ে যাবো।মনের মধ্যে এমনও চিন্তার টেউ খেলে গেলো দু একবার।কিন্তু পা দুঠো নড়াচড়া করবার শক্তিটুকুও যেন উধাও হয়ে গিয়েছে নিমিসেই।ক্রমশ ব্যাপারটা কেমন জানি ঘোঁলাটে হয়ে আসছে চোখের সামনে।ভাবতেই আমার গলা শুকিয়ে আসছিল।তিল যেন তাল না হয়ে যায়।সেটাই এখন দেখার বিষয়।ভদ্র লোকটি কি মনে করে বসল কে জানে…..

দরজার লাল রং এর ভারি পর্দা সরিয়ে বাইরের বারান্দায় এসে দাড়ালেন।ভদ্র লোক আমার দিকে সন্দেহ ভরা দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছেন।মাথা থেকে পা পর্যন্ত আপাদমস্তক আমাকে দেখে।ভদ্র লোকটির কোট-টাইয়ের সামনে আমি বেশভুষাই নিতান্ত হদ দরিদ্র দীনও ভিখারী।হয়তো ভাবছেন ও তাই।আমার মতো ছেলের সঙ্গে এ বাড়ির কাউর যে কোনও রকমের বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকতে পারে।বললেও হয়তো লোকটি বিশ্বাস করবে না। আমার সেই রকমেই ধারনা।নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি বেশির ভাগ অর্থ বিত্তশালী ভদ্র শ্রেনীর শিক্ষিত লোক গুলো খুব অহংকারী আর নাক উঁচু স্বভাবের হয়।আমি ভিতরে ভিতরে লজ্জায় কুঁচকে যেতে থাকি।সে আমার হত দরিদ্র দীনতার দৈন্যতার জন্য নয়।
আমি কিছু বলতে যাবো,অমনি ভদ্র লোকটি গলা চড়িয়ে-বাড়ির ঝি চাকরদের ডাকতে শুরু করল।তার গলা ফাঁটানো ডাকে বাড়ির ঝি চাকর সেই মূর্হুতে দৌড়ে ছুটে না এলেও,ঘরের ভিতর থেকে অরুনা নামের সেই গর্ভবতী মেয়েটি ছুটে এসেছে।অরুনা নামের মেয়েটি বলল-এই ভর দুপুরে আবার ঝি চাকরদের নিয়ে কেন পড়লে?হয়েছে কি শুনি।-হতে আর কিছু বাকি আছে!এটা তো তোমাদের বাড়ি নয় যেন র্দশনীয় কোনও তীর্থ স্হান।যখন তখন রাস্তার ছেলে ছোঁকড়া ভিখারী বাড়ির ভিতর অবধি চলে আসে।বাড়িটার দেখছি আর কোনও প্রাইভেসি থাকল না।কি বাজে কথা বলছো।একবার ছেলটিকে জিজ্ঞেস করো না-কি চায়।
জিজ্ঞেস করবে কি?দেখছো না ভিখারী।
ভর দুপুরে নির্জন বাড়ি পেয়ে চুরি করার মতলবে ঢুকে পড়ছে।
আমি সেই গর্ভবতী মেয়েটির দিকে তাকাই……উজ্জল শ্যামলা বর্নের মেয়ে যে এতো রুপবতী হতে পারে।চোখে না দেখলে,কাউকে বলে ঠিক বিশ্বাস করানো কঠিন।শৈলেনের বোনেই হবে হয়তো।এক পাশ ফিরে দেখলে মুখের কিয়দংশ শৈলেনের মুখের পতিচ্ছবিটাই অনবরত চোখের সামনে ভেসে উঠে।
শৈলেন বলেছিলঃতার ভগ্নি পতি বিনোধ অধিকারী বিলেত থাকে।এনিই হয়তো সেই বিলেত ফেরত বিনোধ অধিকারী।যে রকম ভাবে খবরদারীর কৃতত্ব করছেন।আমার দৃষ্টিতে তাই মনে হয়।দুর থেকে এতোদিনে শৈলেনের মুখে এই কোট টাই পরিহিত ভদ্র লোকটির অনেক মুখোরচক গল্প শুনে এসেছি।তখন ভক্তি শ্রদ্ধায় মাথাটা নিজ থেকেই নত হয়ে এসেছিল।আজকের ব্যাবহারে তা যেন আবার পুর্নরায় শুন্যের কৌটায় নেমে গেলো।মানুষের মনের বিশ্বাস ভক্তি শ্রদ্ধার স্হিতি কাল বড় ক্ষনর্জম্মা।যার কথা বার্তায় সামান্যতম সৌজন্যবোধ নেই।তাকে আর যাই হউক ভদ্রলোক বলা চলে না।স্বার্থের দেয়াল প্রাচীরে চুন থেকে পান খসলেই কেউ আর তখন ভদ্রলোক থাকে না।পরিধানের কোট টাইয়ের অন্তরাল থেকে তার বিশ্রী জানোয়ারের স্বরুপটি অনায়াশে বেরিয়ে আসে।তখন লোক লজ্জার ভয়ের রাখঢাকের সমভ্রমটুকুও খন্ডিত করতে সে কুন্ঠিত বোধ করে না।এটাই এখন আমাদের কোট টাই পরিহিত শিক্ষিত সমাজের চরিত্র।।নিজের ঘরের লেলিহান আগুনের দাবানলে যতখন না আমরা নিজেরা পুড়ে ছাই ভম্ম হয়ে যাচ্ছি।ততখন পর্যন্ত পরের ঘরে লেলিহান আগুনের দাবানলের দ্বীপশিখা টুকুও দেখেও আমরা চিতকার করি না।দিনে দিনে আমরা এইসব জুয়াচুরী ভনিতার প্রকোপ দেখে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি।যে যেটা করে অভ্যস্ত সে সেটা না করতে পারলে বোধদয় স্বস্তিবোধ করে না।কেউ গৃহ পালিত গাভীর দুধ বিক্রি করে মদের আসরে বসে,আবার কেউ মদের আসরে বসে মদ বিক্রি করে বাজার থেকে সন্তানের জন্য দুগদ্ধ সামগ্রী খরিদ করে নিয়ে আসে।আজকালের মানুষে মানুষের সংস্কৃতিটা যেন দিনে দিনে এই রকমেই হয়ে উঠছে।ক্ষনিকের অন্তরালে যখন আমি এই রকম ভাবনা ডুব জলে সাঁতার দিচ্ছি।সেই সুযোগে বিলেত ফেরত বিনোধ অধিকারী খপ করে আমার ঘাড়ের কাছাকাছি চেপে ধরে সোজা নাক বরাবরে একটা কষিয়ে ঘুষি মেরে বসলেন।আমি দফাস করে দু হাত পিছিয়ে মেঁঝের উপর যেয়ে ছিটকে পড়ে গেলাম।সেই গর্ভবতী মেয়েটি।শৈলেনের বোন।ঘরের ভিতর ভদ্র লোকটি একবার যেন কি নাম নিয়েছিল-অ-অ-অরুনা।শৈলেনও বলেছিল তার দিদির নাম অরুনা।তিনি বললেন-কি কি করছো।আহা ছেড়ে দাও।
ঘুষিটা একদম যেয়ে নাক বরাবর পড়েছে।এখন কলের জলের মতো হরহরিয়ে রক্ত গড়িয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।ভদ্র লোকটি আবার আমার ঘাড়ের কাছটাই চেপে ধরে টেনে তুলে বলল-ফের যদি তোকে এ বাড়ির ত্রিসীমানায় ঘুর ঘুর করতে দেখি তবে রে…..ততখনে দেখি বাড়ির ঝি চাকরের দল নিচের সিঁড়ির ধাপে এসে ভির জমিয়েছে।আমি কেবল কোনও রকমে বলতে পারলাম অরুনা দিদি আমি চোর নই,ভিখারী নই আমি…….বলেই হন হনিয়ে সিঁড়ি ধাপ মাড়িয়ে প্রায় বাড়ির সদর দরজার কাছাকাছি চলে এলাম।অরুনা দিদি বোধ হয় পিছন থেকে বার কয়েক ডাকলেন এই ছেলে শুনে যাও……গনেশ ওকে ধরে নিয়ে আয়।ততখনে আমি অনেকটা গনেশের হাতের নাগালের বাইরে।বন্দি খাঁচার পাখি হঠাত ছাড়া পেয়ে মুক্ত বিহঙ্গে যেমনটি করে উঁড়াল দেয়।ক্ষনিকের জন্য হলেও যেন নিজেকে সেই মুর্হুতে মুক্ত বিহঙ্গের পাখিই মনে হয়েছিল।

উপসংহারঃ
সেদিন শৈলেনের কাছ থেকে ভূগোল বইটা ধার না নিয়ে আসতে পারলেও,নিজের চেহারার ভূগোলটা পুরোপুরি পাল্টে নিয়ে বাড়ি ফির ছিলাম।কি করে এমন হলো?বাবা মা ভাই বোনের নানা প্রশ্ন….সে আর এক বিরম্ভনা।পরের দিন বোঁচকানো নাগ নিয়ে স্কুলে গেলাম।দেখলাম শৈলেনের বাম হাতের ব্যান্ডেজ গলার সাথে পট্টি মেরে ঝুলে আছে।বললাম কিরে তোর অবস্হা এমন হলো কি করে? দোঁতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পা ছলকে পড়ে গিয়ে হাত মঁচকে গেছে।সারাটা দুপুর বাবা মা ঐ নিয়েই ডাক্টার হাসপাতাল দৌড় ঝাপ করলেন।সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে এসেতো সবাই অবাক জামাই বাবু বিলেত থেকে ফেরত এসেছে।তারপর দুপুরের দিকে নাকি আমার বয়সী এক চিঁছকে চোর ভিখারী সেজে বাড়ির ভিতর অবধি ঢুকে পড়েছিল।জামাই বাবু দেখে ফেলাতে রক্ষে।নয়তো বিলেত থেকে নিয়ে আসা দিদির সব দামি জিনিসপত্র খোয়া যেত।আমি গোঁয়ার গোবিন্দ নিশ্চুপে শৈলেনের বিলেত ফেরত জামাই বাবু-বিনোধ অধিকারীর চোর ধরার গল্প শুনি।একে একে সুমন হরিপল মাধব বিশুপতি সেই চোর ধরার গল্প শোনে।অনেক দিন ধরে শৈলেন তার বিলেত ফেরত জামাই বাবু বিনোধ অধিকারীর চোর ধরার গল্প করে বেড়ায় আমার কাছে।

ট্যাগস:

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০০৯ | ১,১৮০ বার পঠিত | মন্তব্য করুন

লিখেছেন : sekrseraj

%d bloggers like this: