WordPress database error: [Can't open file: 'wp_usermeta.MYI'. (errno: 145)]
INSERT INTO wp_usermeta ( user_id, meta_key, meta_value ) VALUES ( '', 'wp_1_capabilities', 'a:1:{s:10:"subscriber";b:1;}' )

শ্রাবণ আকাশ : সাদা-কালো

WordPress database error: [Can't open file: 'wp_usermeta.MYI'. (errno: 145)]
SELECT meta_key, meta_value FROM wp_usermeta WHERE user_id = '5' /* pluggable get_userdata */

দিনপঞ্জি, স্মৃতির পাতা August 5th, 2007

পরো পরো চৈতালী-সাঁজে কুস্‌মী সাড়ি

লাস্ট লেখাটা শেষ করেছিলাম এই গানটা শুনতে শুনতে। আজ আবার লিখছি এই গানটা শুনতে শুনতে। গানটা আজ সারাদিন ধরে ঘরে বাজছে। একটা সময় নিউ মার্কেট-এর ক্যাসেটের দোকান থেকে পছন্দের গানগুলো বেছে বেছে নিয়ে আলাদা ভাবে ক্যাসেট করিয়ে আনতাম। পকেট হালকা হয়ে যেত…তবুও…। আবার ক্যসেটগুলোও স্পেশাল ব্রান্ডের কিনতাম…অনেক দিন টিকবে বলে। তারপর যাত্রা শুরু হলো এমপিওথ্রি-র হাত ধরে। সিডিতে কিনে, ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে আবার পছন্দের গানগুলো আলাদা আলাদা সিডিতে করার পেছনেও সময় চলে গেছে অনেক। তারপরতো আরো অনেক ফরম্যাটে গান শোনার পদ্ধতি চলে এসেছে।

তো প্রথম বাছাইকৃত গানের যে ক্যাসেটটা করিয়েছিলাম, সেটা ছিল মনি কিশোর-এর। মনি কিশোরের গানের সাথে পরিচয় ক্লাস এইটে থাকাকালীন সময়ে। এক প্রাইভেট টিউটর + আঙ্কেল লজিং থাকতেন আমাদের এলাকায়। ওয়াকম্যানে গান শোনার খুব শখ। রাতে পড়াতে যাবার ঠিক আগে হেডফোন খুলে রাখতেন; আবার আমাদের পড়ানো হয়ে গেলে কানে তুলে চোখ বুঝে শুয়ে পড়তেন। অবাক হতাম লাইফ স্টাইল দেখে! ভাবতাম কবে বড় হব, কবে ওরকম একটা ফ্রি লাইফ পাব- যখন ইচ্ছে গান শোনার…। দুপুরের বেলাটায় বাড়িতে থাকতেন না। এই ফাঁকে একদিন তুলে নিলাম তার ওয়াকম্যান। কানে তুলে নিয়ে ওন করতেই- ‘তুমি বুঝলেনা কোনদিনও আমার মনের বেদনা…’ আহা! পাশেই ক্যসেটের খাপটা পড়ে- মনি কিশোরের ‘তুমি বুঝলেনা’…

নিজের টাকায় প্রথম কেনা ক্যাসেটটি ছিল ‘তুমি বুঝলেনা’, সাথে মনি কিশোর-এর আরো একটি- ‘উত্সব’ এবং এলআরবি-র ‘সুখ’। ক্লাস নাইনে পড়ি। ৩৫টাকা করে। তবে তিনটার দাম ১০০ রাখলেন দেব’দা। এই পাঁচ টাকা ডিসকাউন্ট দেয়ার জন্য তার দোকান থেকে এর পর যে কি পরিমান ক্যাসেট কেনা হয়েছে তার হিসাব যদিও করা কঠিন, তবুও এখন মাঝে মাঝে আমি ভেবেই অবাক হই।

দিনপঞ্জি, স্মৃতির পাতা July 31st, 2007

কি গান শোনাবো ওগো বন্ধু

কয়েকদিন ধরে পুরোপুরি ঘরকুনো। বাইরে বের হচ্ছিলাম না। ঘরে ক্রিকেট খেলা দেখা আর গান শোনা নিয়ে চলে যাচ্ছিল সময়। মাঝে মাঝে হুমায়ূন আহমেদ, যতক্ষণ না চোখে ব্যাথা শুরু হয়। তবে কম্পিউটার বা আইপড-এ গান শুনার তুলনা হয় না। যখন যেখানে খুশি চলে যাওয়া যায়। যেমন করে খুব সহজে ‘সব আলো নিভিয়ে দিয়ে চলে গেলে তুমি…’। আইয়ুব বাচ্চু। একটা মজার ব্যাপার- ওল্ড ইজ গোল্ড- কথাটা সবসময়ই খুব বেশী সত্য। নতুন গান একবার শুনি। পুরাতনগুলো বার বার। ‘চলো বদলে যাই’ আইয়ুব বাচ্চুর ‘লেটেস্ট’ কিসের সাথে তুলনা চলে! ফেরারী এ মনটা আমার, সেই তারা ভরা রাতে, কোন অভিযোগ নেই যে আমার/কোন অভিমান নেই এখন…। টুটুলের ‘আমার রূপকথা নেই/আমার শুকসারি নেই/ ঝাড়বাতি জ্বালানো/সাজানো সাজঘর নেই…’ বার বার ফিরে ফিরে আসে। পার্থর ‘…আমি ভুলে যাই তুমি আমার নও’ লাইনটাও ভোলা হয় না। মাইলসের গানগুলো তো অংকের খাতা ভরা থাকতো। আবার অনেকের প্রিয় আসিফের দু’একটা বাদে বাকি সব একঘেয়েমি লাগে। ‘এখনো মাঝে মাঝে/মাঝ রাতে ঘুমের ঘোরে/শুনি তোমার পায়ের আওয়াজ/যেন তুমি এসেছো ফিরে/ তুমি চলে গেছ অনেক দূরে/এই মনের আঙিনা ছেড়ে…’ অসাধারণ। রাতের বেলা হাজার বার শোনা যায়। এরকম তপন চৌধুরী’র ‘আকাশের সব তারা ঝরে যাবে/আমার চোখের তারা ঝরবে না গো/ তোমাকে দেখার সাধ মরবেনা…’। আবার পথিক নবী যখন ‘আমার শুধু আমি আছি বোঝে নাতো কেউ’ কিংবা ‘বুকের ভিতর খাঁ খাঁ করে…’ বলে টান দেন তখন বুকের ভিতরটা কার না হু হু করে ওঠে!

হাসানের গান অনেকদিন শোনা হয় না। তবুও ‘প্লে লিস্ট’-এ ‘এত কষ্ট কেন ভালোবাসায়’ পড়ে আছে। জেমস্‌ হিন্দী গাওয়া শুরু করলে কিছুটা অভিমান নিয়েই এর গানই শোনা বাদ দিয়ে দিয়েছিলাম। জানি অবশ্যই কিছু একটা হবে, কিন্তু হিন্দি তো বুঝিনা। তো সে ভালো গান করবে আর আমি বুঝবো না- তাহলে কেমন করে হয়! দেখলাম কম্পিউটারে ‘…আমি কোন ফুলে দেব পূজা তোমার…’ আর ‘…জলের ঢেউ শ্যাওলা পাতা কেমন কইরা রে/ বন্ধু যখন চলে গেল খবর দিলি নে’ গান দুটি পর পর বাজছিল।

আর ফোক গান বা এর সুর তো মনের মাঝে সবসময়ই বাজে। মুজিব পরদেশী। ‘আমি কেমন করে পত্র লিখি রে বন্ধু/গ্রাম পোষ্ট অফিস নাই জানা…’, বিজয় সরকারের ‘তুমি জাননারে প্রিয় তুমি মোর জীবনের সাধনা’। মনে আছে- এক সময় সারা ঢাকা তন্যতন্য করে এ গানটি খুঁজছিলাম। নিউমার্কেটের উত্তরদিকের দোতলায় দোকানদার বের করে দিয়েছিলেন ব্যান্ড চাইম-এর বিকৃত সুরে গাওয়া গানটি। শুনে বমি বমি অবস্থা। আসল ফোক সুরে গাওয়া গানটি আর পাচ্ছিলাম না। শেষে পুরানা পল্টন আজাদ প্রোডাক্ট-এর সামনে ফুটপাতে পেয়েছিলাম এক বাউলের কন্ঠে। কিন্তু রেকোর্ডিং-এর মান ভালো না থাকায় মিউজিক ছাড়া গানের কথা কিছু বোঝা যাচ্ছিল না। পরে কেমন করে যেন মুজিব পরদেশীর ‘বিজয় বিচ্ছেদ’ ক্যাসেটটি পেয়ে যাই। দিন-রাত বাজাতাম। সাথে ‘পোষা পাখী উড়ে যাবে সজনী একদিন ভাবি নাই মনে…’।

এমন করেই একদিন শুনতে পেলাম- ‘কাঙাল হইলে ভবে কেউ জিগায় না…’ - আজম খানের কন্ঠে। ভালো মন্দ বুঝি না। কারণ আর কারো কন্ঠে শুনতে পাই নাই। তবে খুঁজছি।

আর যে গানটি কখনোই ক্যাসেটে শুনি নাই- ‘আসমান ভাইঙ্গা জোস্‌না পড়ে/আমার ঘরে জোস্‌না কই/ আমার ঘরে এক হাঁটু জল/ পানিতে থইথই…’। গানটি শুনতাম গ্রামের আসরে। জোসনা রাতে গ্রামের অনেকের উঠানে এ ধরনের আসর বসে। সেরকম পরিবেশে এরকম গান শোনার অনুভুতিটাই আলাদা। এরকম আসর কিছু বাংলা নাটকে দেখা যায়। তেমন একটা নাটকে শুনেছিলাম ‘চান্দের আলো আমার রূপালী চাঁদ রে, তুই কি বন্ধুর শহরে উঠিস না…’। নাটকের নামটা ভুলে গেছি। মৌসুমী, বিপাশা, শিমুল, জাহিদ হোসেন শোভন- এরা ছিলেন।

এতবড় লেখা কোনো ব্লগে আজ অবধি লেখা হয়নি। এখন সমস্যা হচ্ছে- লেখা শেষ হচ্ছে না। আরো অনেক অনেক লিখতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু…নাহ্‌, গান বাজছে ‘পরো পরো চৈতালী-সাঁজে কুস্‌মী সাড়ি’ নজরুল গীতি, অনুপ ঘোষাল…গানটা আগে শুনি…

দিনপঞ্জি July 15th, 2007

চোখে জল এসে গেল

কাল অনেক রাতে শুরু করেছিলাম…আসলে শুরু করতে যাচ্ছিলাম…

শুরু করার আগেই এমন ঘুম পেয়ে গেল…

ঘুম থেকে যখন উঠলাম ততক্ষণে বিকেল হয়ে গেছে…

আবার শুরু করলাম…

এই শেষ হলো হুমায়ূন আহমেদের ”মৃন্ময়ীর মন ভালো নেই”…

শেষটা খুবই আনন্দের…খুবই সুখের…

চোখে জল এসে গেল…

ব্যক্তিগত July 6th, 2007

বনের আগুন সবাই দেখে, মনের আগুন কেউ না দেখে

সুপ্রাচীন গ্রিক রাশিশাস্ত্রে দোহাই দিয়ে পছন্দের কোন ব্যক্তি যদি বলেন, “···আপনার অন্তরের আগুন কেউই ভালোভাবে দেখতে পাবে না। হয়তো কোনোদিনই না।”- তাহলে মান-অভিমানের পালাটা আপনা থেকেই কিছুটা কমে আসে। এমনিতেই কিছুদিন ধরে ইন্দ্রিয়ের কিছু অনুভূতি ভোতা করার একটা অলিখিত চেষ্টা মনের মধ্যে চলছে। এ চেষ্টা কতদিন চালাতে পারবো জানিনা, তবে এর মধ্যেই ফলাফল অনেকটা ভাল। কোন টেনশন করছি না, রাগারাগি থেকে দূরে আছি, অহেতুক তর্ক-বিতর্ক করে মাথা গরম হচ্ছে না…আরো অনেক। তবে ‘নিজের জন্য কিছু করা’ ধরনের কাজ বেশী নেয়া হচ্ছে বলে ঘুমটা কমে গেছে। আবার ইচ্ছে করলে ঘুমের সময়টাও বাড়াতে পারছি। আসলে বাড়তি সময়টাতে ঠিক ঘুম হয় না…চোখ বন্ধ করে ইচ্ছে মতন স্বপ্নের জাল বোনা হচ্ছে। এ রকম স্বপ্নকে একটা অদ্ভুত ধরনের খেলা বলা যায়। নিজের সাথেই। মাঝে মাঝে কাউকে টেনে নিয়ে কথোপকথন অথবা চুপচাপ বসে মনে মনে কথা বলা।

ভাবি, এই যে মনে মনে সঠিক কথাগুলো সঠিক সময়ে ঠিকই এসে যায়, বাস্তবেও যদি এমন হত…

দিনপঞ্জি June 21st, 2007

আজ ঝড় হবে

সামারের প্রথম দিন। সকাল-দুপুর মোটামুটি সুন্দর আবহাওয়া ছিল। কিন্তু এই বিকেলটা হঠাত করে অন্ধকার হয়ে গেল। আবহাওয়ার রিপোর্টটা না জানা থাকলে অনেকেই অবাক হবে।  আবহাওয়ার পূর্বাভাষে বলা হয়েছে বিকেলের দিকে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে শুধু বৃষ্টিই না- ঝড় হবে। ভাবছি- এখন একটু বাতাস হলেই গাছের আমগুলো টপাটপ পড়ে যাবে। এবার আম কুঁড়াবার পালা…

দিনপঞ্জি June 10th, 2007

নতুন পরিচয়

কাল ছিপ নিয়ে নদীতে গিয়েছিলাম মাছ ধরতে। সেখানে এক মজার মানুষের সাথে পরিচয়।

নদীর পাড়ে গিয়ে দেখি সেখানে আরেক ভদ্রলোক ছিপ ফেলে বসে আছেন। স্বাস্থ রোদের সাথে পাল্লা দিয়ে তার মেজাজটাও চড়ছে। বুঝলাম অনেকক্ষণ হয় এসেছেন কিন্তু কোন ফল হয় নি। আমি তার পাশেই ঘাঁটি ফেললাম। কিছুক্ষণের মধ্যে আমার বড়ছির সাথে বেমানান এত ছোট একটা মাছ উঠলো যে ছেড়ে দিতে হল। সাথে আমার মেজাজটাও  কিছুটা খারাপ হতে শুরু করল। দেখেছি যে শুরুতেই যদি মাছটি ছেড়ে দিতে হয় তো সেদিন আর কিছুই হয় না। ভদ্রলোক জায়গা বদল করতে বললেন। ভাবলাম দেখি অন্যদিকে গিয়ে কি হয়। দুজনেই গেলাম। সেখানে মাছ ধরার ফাঁকে ফাঁকে ভদ্রলোকের সাথে অনেক কথা।

মাছের সাইকোলজির সাথে সাথে জীবনেরও অনেক কথা। প্রায় ১৮/২০ বছর আমেরিকায় থাকেন। ছেলে-মেয়েরা সবাই কলেজে পড়ছে। একটা গ্যাস স্টেশনের ব্যবসার শেয়রা আছে। সেখানে থেকে যা পান তাই দিয়ে সংসারের অন্য সবার খরচ চলে। নিজে সপ্তাহে ২/৩দিন কাজ করেন। তা দিয়ে নিজের খরচ চালান। সপ্তাহের বাকি দিনগুলো এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়ান। আগে ড্রিঙ্ক/স্মোকিং-এর নেশা ছিল। ডাক্তারের নিষেধে সব ছেড়ে দিয়েছেন। কোন রোগ-বালাই নেই। এখন শুধু এই মাছ ধরার নেশাটাই আছে। চলনে-বলনে অত্যন্ত সাদাসিধে।

সবচেয়ে ভালো লাগল তার সাধারণ জীবন দর্শন। জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলোর নিশ্চয়তা থাকলে আর টাকা-পয়সার ধান্দা না থাকাই ভালো। এতে পুরো জীবনটাই নষ্ট হয় টাকাপয়সার পিছনে। আমেরিকার অনেক পরিচিত বাঙ্গালীদের কথা বললেন। যথেষ্ট থাকার পরও শুধু টাকা আর টাকা করেই এখন জীবনটা পঙ্গু। রক্তচাপ, ডায়াবেটিস আরো কত কি।

শুনতে পাই আমেরিকায় গেলেই সবার ঈশ্বর হয় ডলার। ডলারের পূজাই বড় পূজা। সেখানে যে এরকম মানুষও থাকতে পারে- সেটা ছিল ধারনার বাইরে।

সাধারণ June 5th, 2007

মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন, শুধু…

golam_azam_jeta_peta.jpg

আসুননা, জুটার তলাটা আরেকবার ক্ষয় করি…

সাধারণ June 5th, 2007

আমার রূপকথা নেই

টাইটেলটা দিয়ে একটা গান আছে। গানটার জন্মলগ্ন থেকেই তর সাথে পরিচয়। আমার রূপকথা নেই/আমার শুকসারী নেই/ঝাড়বাতি জ্বালানো/সাজানো সাজঘর নেই… ইত্যাদি ইত্যাদি। মাঝে মাঝে গুনগুন করি। অক্ষমতা কিছুক্ষণ চাপা পড়ে থাকে। ভালো কিছু হবে ভাবতেই অজ্ঞান হয়ে যাই। এমন একটি গল্প ধরা পড়েছিল নেটে। কিছু ডাইলোগ মাথায় ঢুকে গেছে। যেমনঃ

-আপনি কোথায় চাকরি করেন?

-আমি কোথাও চাকরি করি না।

-চাকরি করেন না, কেন?

-অভিজ্ঞতা ছাড়া চাকরি হয় না আর চাকরি ছাড়া অভিজ্ঞতা। আমার দুটো কোনওটাই নেই।

সাধারণ May 31st, 2007

প্রিয় বাংলাদেশঃ যা হচ্ছে…যা হচ্ছিল…

খবরটি ১লা জুন, ২০০৭-এর দৈনিক প্রথম আলোর। এ ঘটনা আমেরিকায় হলে এ নিয়ে নির্ঘাত হলিউডে এতক্ষণ একটা ‘সাংঘাতিক মুভি’ তৈরী শুরু হয়ে যেত। আর্কাইভে রেখে দিলাম।

বসুন্ধরার মালিকের ছেলেকে খুনের মামলা থেকে বাঁচাতে ২০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন বাবর 

লুত্ফুজ্জামান বাবর

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরকে দেওয়া ঘুষের ২০ কোটি টাকা আদায় হয়েছে নয়টি চেক ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে| বিএনপির সাবেক সাংসদ, শিল্পপতি কাজী সালিমুল হকের (কাজী কামাল) কাছ থেকে এই অর্থ আদায় করা হয়েছে|

কাজী সালিমুল হক বেসরকারি প্রাইম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান| তাঁর দেওয়া চেক ও পে-অর্ডারের মধ্যে পাঁচটি প্রাইম ব্যাংকের| দুটি করে চেক ও পে-অর্ডার দেওয়া হয়েছে সাউথইস্ট ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের|

সাবেক জোট সরকারের প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে লুত্ফুজ্জামান বাবর বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের শাহ আলম কাছ থেকে এই ঘুষ নিয়েছিলেন| শাহ আলমের ছেলে সাফিয়াত সোবহান সানবিকে একটি খুনের মামলা থেকে রেহাই দিতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে এই ২০ কোটি টাকা ঘুষ দেওয়া হয়েছিল|

ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার-এ গতকাল বৃহস্পতিবার বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ২০ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়া এবং তা ফেরত দেওয়ার সংবাদ প্রকাশিত হয়| এ বিষয়ে প্রথম আলোর অনুসন্ধানে তিনটি ব্যাংকের নয়টি চেক ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে অর্থ ফেরত দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে|

আদায় করা এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো হয় গত বুধবার| গতকাল বৃহস্পতিবার পে-অর্ডার ও চেক÷লো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়ের “ক্লিয়ারিং হাউস”-এ দেওয়া হয়|

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আহমেদ আকবর সোবহান, বসুন্ধরা গ্রুপের আরেক পরিচালক আবু সুফিয়ান ও মহাব্যবস্থাপক লিয়াকত আলী তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সঙ্গে সমঝোতা করেন| তাঁরা পাঁচ কোটি টাকা নগদ দেন| আর বাবরের পরামর্শ অনুযায়ী বাকি ১৫ কোটি টাকা কাজী সালিমুল হকের কাছে দেওয়া হয় পে-অর্ডারের মাধ্যমে| তদন্তে প্রমাণ পাওয়ার পর যৌথ বাহিনীর কাছে জনাব বাবর ঘুষ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন| লুৎফুজ্জামান বাবরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে|

২০০৬ সালের জুলাই মাসে বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক হুমায়ুন কবির সাব্বিরকে হত্যা করা হয়| ÷লশানের একটি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে তাঁর লাশ পাওয়া যায়| এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে সাফিয়াত সোবহান সানবিকে সন্দেহ করা হয়| এ নিয়ে সে সময় লেখালেখি হলে সানবি দেশ ছেড়ে চলে যান| তাঁকে দেশ ত্যাগে সহায়তা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে| এমনকি এই মামলা এখনো নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় রয়েছে| বর্তমানে সানবি লন্ডনে| বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানও এখন সপরিবারে লন্ডনে| সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজ হিসেবে সরকারের দেওয়া প্রথম ৫০ জনের তালিকায় তাঁর নাম থাকার পর থেকেই তিনি পলাতক| এই তালিকা ৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয়|

জানা গেছে, আহমেদ আকবর সোবহান ছেলেকে খুনের মামলা থেকে বাঁচাতে লুত্ফুজ্জামান বাবরকে ২০ কোটি টাকা দেওয়ার চুক্তি করেছিলেন| ডেইলি স্টার-এ প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, বসুন্ধরা গ্রুপের একজন পরিচালকের কাছ থেকে যৌথ বাহিনী এ তথ্য জানতে পারে| প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কিছু অর্থ তিনি নিজেই বাবরের বাসায় দিতে গিয়েছিলেন| কিন্তু একবার যখন নগদ এক কোটি টাকা নিয়ে তিনি বাবরের বাসায় যান, তখন এই অর্থ জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান, সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হককে পৌঁছে দিতে বলেন| এই অর্থ কাজী সালিমুল হক ব্যাংকে জমা রাখেন|

যৌথ বাহিনীর কাছে পরে কাজী সালিমুল হক এই অর্থ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন| তিনিই এই অর্থ যৌথ বাহিনীর কাছে ফেরত দিলে তা গতকাল সরকারি কোষাগারে জমা হয়| এ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় কাজী সালিমুল হককে পাওয়া যায়নি|

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ১লা জুন, ২০০৭।

সাধারণ May 28th, 2007

দেখলাম শুনলাম কিছুই বুঝলাম না!

Khaleda Zia

আচ্ছা কবি - থুঁড়ি শিশির মশাই এখানে কি বুঝাতে চেয়েছেন? চোরের মা’র বড় গলা…?!

গুরু একটু খুলে বলুন না!