মানুষ ও পৃথিবী ।

মানুষের জীবন বড় বিচিত্র। মানুষ ভাবে এক হয় দুই। ছোট্র বেলায় শিশু ভাবে বড় হলে সে মেলায় যাবে, অনেক সুন্দর সুন্দর খেলনা কিনবে এবং প্রতিবেশী সংগী সাথিদের দেখায়ে দেখায়ে খেলবে আর মজা করবে । কিন্তু সত্যি সত্যি সে যখন বড় হয় তখন আর তার মেলায় যেয়ে খেলনা কেনার শখ থাকে না । তখন জাপটে ধরে তাকে অন্য শখ অন্য নেশা ।

মানব জীবন বড়ই বিচিত্র । এক এক স্তরে সে এক এক জিনিসের প্রতি আগ্রাহ প্রকাশ করে ।এক স্তর থেকে সে যখন অন্য স্তরে প্রবেশ করে তখন তার আর আগের শখ বা মোহ থাকে না । এই ভাবে শিশু কাল থেকে যৌবন, যৌবন থেকে পৌড়, তার পর একদিন সে এই মোহময় পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে অনন্তলোকে যাত্রা করে । পিছে পড়ে থাকে তার ভাল মন্দ কর্মে ভরা এই বিশাল পৃথিবী ।

বসুমাতা বড় কৃপন ও সুবিধাবাদি । তার প্রয়জনেই শুধু সে মানুষকে ব্যাবহার করে। যতক্ষন যাকে প্রয়জন ঠিক ততক্ষনই সে তাকে সর্বসহা জননীর মতো স্নেহে বক্ষে আকড়ে ধরে রাখে । বহু অন্যায় আব্দার, দুরন্তপানা সে নিরবে সহ্য করে- কিন্তু প্রয়জন শেষ হওয়া মাত্রই সে ধারন করে রনাংগনী মুর্তি, ময়লা স্তুবের মতো প্রয়জনহীন মানুষকে সে ছুড়ে ফেলে দেয় ডাষ্টবিনে । জীবনের হাজারও কাকতি মিনতি তার কর্নকুহুরে প্রবেশ করে না । তার পাষান রিদয়ে ক্ষনেকের জন্যও স্নেহ মায়ার উদ্দেক হয় না ।

কিন্তু তবুও মানুষ ভালবাসে ঐ মায়াবী ডায়নিকে। তার মিথ্যা প্রমের প্রলভনে নিজের অস্তিত্বকে হারিয়ে, সেই হারানো অস্তিত্ব খুজে পেতে চায় ঐ মিথ্যা দুরাচারিনির মাঝে । কিন্তু নির্বোধ মানুষ আর কোন দিনও তার সেই হারানো অস্তিত্ব ফিরে পায় না ।যখন তার চেতনা হয় তখন আর তার ফেরার পথ থাকে না । অবশেষে পৃথিবীর প্রাত্যাখিত প্রেমকে অবলম্বন করে আজন্ম লালন করা সাধ সাধনাকে বির্শজন দিয়ে ফিরে যেতে হয় তাকে তার শেষ গন্তব্যস্হলে ।

শুধু মানুষ কেন প্রতিটি প্রানিই পৃথিবীর এই মায়া জালে আবদ্ধ । পৃতিবীর সৃষ্টিলগ্ন থেকে অদ্যবধি কোথায়ও এর ব্যাতিক্রম নেই । জন্ম নিলেই মিত্যু এই অবধারিত সত্য জেনেও মানুষের বেচে থাকার প্রবল আগ্রহের বহিঃপ্রকাশই পৃথিবী এবং জীবনের প্রতি অকৃতিম প্রেম, ভালবাসা । পৃথিবীর নিয়ন্ত্রনে বা প্রবাভে জীবন প্রচালিত হয় । তাই মানুষ যখন পৃথিবীর প্রতি আস্হা হারিয়ে ফেলে, জীবন দুর্বিশহ হয়ে উঠে তখনই আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয় ।

পক্ষান্তরে যদি জীবনের প্রবাভে পৃথিবী পরিচালিত হত তাহলে হয়তো কোন কালেও মানুষকে আত্মহত্যা করতে হত না । প্রকৃতির নিয়ন্ত্রন ষোলআনা থাকতো মানুষের হাতে । ইচ্ছা করলেই মানুষ রাতকে দিন আর দিনকে রাত করতে পারতো । বর্ষায় বসন্তের আর্বিভাব আর বসন্তে বর্ষার আর্বিভাব প্রকৃতিতে লক্ষ করা যেত ।

Leave a Reply